ওজন কমানোর প্রায় ৯ হাজার বিশেষ ইনজেকশনসহ থাইল্যান্ডের সুবর্নভূমি বিমানবন্দরে আটক হয়েছেন এক চীনা যাত্রী। তিনি বাংলাদেশের ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দুটি লাগেজে করে এই ইনজেকশগুলো নিয়ে যান। তবে তিনি ঢাকায় ধরা না পড়লেও থাইল্যান্ডে গিয়ে ধরা পড়েছেন।
গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় থাই সংবাদমাধ্যম ব্যাংকক পোস্ট।
এই ইনজেকশনগুলোর দাম থাই মুদ্রায় ৫৩ লাখ বাহট। যা বাংলাদেশি অর্থে প্রায় দুই কোটি টাকার সমান।
ব্যাংকক পোস্ট জানিয়েছে, গত শনিবার ওই চীনা যাত্রী থাইল্যান্ডে অবতরণ করেন। ওই সময় কাস্টমস কর্মকর্তারা তার দুটি লাগেজ চেক করে ৮ হাজার ৯০০টি ইনজেকশন পেন পান। যেগুলো প্লাস্টিকের মোড়কের ভেতর ছিল। আর তিনি ঢাকার বিমানবন্দর থেকে থাইল্যান্ডের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে যান বলে উল্লেখ করেন দেশটির কাস্টমস কর্মকর্তারা।
থাইল্যান্ডে এই ইনজেকশন পেনগুলো বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত ওষুধ হিসেবে ধরা হয়। এগুলো ব্যবহারের জন্য চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন প্রয়োজন হয় এবং শুধুমাত্র ফার্মাসিতেই পাওয়া যায়।
এই ইনজেকশন পেনগুলো দিয়ে জিএলপি-১ রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট নামে একটি ড্রাগ শরীরে পুশ করা হয়।
থাইল্যান্ডের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের মহাসচিব সুপাত্রা বুনসাম বলেছেন, শরীরে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট হওয়া হরমোন গ্লুকাগোন-লাইক পেপটিড-১ এর মতো কাজ করে এই ড্রাগ।
এটি মূলত উদ্ভাবন করা হয়েছিল টাইপ-২ ডায়বেটিস চিকিৎসার জন্য। যাদের টাইপ-২ ডায়বেটিস আছে এটি পুশ করে তাদের শরীরের সুগার ঠিক রাখা হয়, পেট খালি হওয়া ধীর করে দেওয়া হয় এবং পেট ভরা আছে এমন অনুভূতি দেয়। এছাড়া যেসব মোটা মানুষ শরীর কমাতে চান তাদের জন্যও প্রায় একই ধরনের ড্রাগ তৈরি করা হয়েছে।
তবে থাইল্যান্ডে দেখা যাচ্ছে কোনো ধরনের প্রেসক্রিপশন এবং নজরদারি ছাড়াই এটি ওজন কমানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশটিতে নীতি প্রণয়ন করা হয় গত সেপ্টেম্বরে।
প্রগতি টিভি/ এফ এম
সম্পাদক ও প্রকাশক: জাকির হোসেন,
সকল স্বত্ব সংরক্ষিত @ প্রগতি টেলিভিশন